সোলায়মান হায়দার

একজন ফ্রিল্যান্সারের দুঃস্বপ্ন কি? আ ব্যাড ক্লায়েন্ট। আমাদের জীবনে কয়েকজন জিনিস আসে, যাদের কে আমরা ব্যাড ক্লায়েন্ট বলি। তারা একেকজন আবার একেক কিসিমের হয়। তাদেরকে নিয়ে আজ কিছু কথা বলবো।

১। মিস্টার নেভার এন্ডঃ

এই ক্লায়েন্টগুলির চাহিদা শেষ হয় না। এরা ছোটো একটা প্রজেক্টের জন্য নামমাত্র মুল্যে ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে এবং যখন আপনি কাজ শুরু করেন তখন এই মিস্টার নেভার এন্ডের আসল চেহারা হাজির হয়। তাদের মেক্সিমাম মেসেজ শুরু হয় “I forgot to tell you..” দিয়ে।

২। মিস্টার আন এভাইলেবলঃ

প্রজেক্ট রিলেটেড একটা গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল পাঠালেন ক্লায়েন্টকে। দিন যায়, সাপ্তাহ যায়, কোন রিপ্লে নাই। আপনি ভাবা শুরু করেন, বেচারা কি কোন সমস্যায় পরলো? তারপর হটাত করে একদিন সে হাজির হবে এবং ‘Where is my project?” দাবি করে বসবে। আপনার সে প্রশ্নটার উত্তর কিন্তু এখনো পাননি।

৩। মিস্টার বাচালঃ

এই ভাইজান মিস্টার আন এভাইলেবল এর ঠিক উলটা। এই ক্লায়েন্ট আপনার টাইপিং স্পিড বাড়িয়ে দিবে শিউর। এরা ১ ঘন্টা পর পরই প্রজেক্টের আপডেট চায়। আর এরা আপনি যতখন কাজ করবে ততখন ভুতের মতো বসে থাকে। এরা মাঝে মাঝে অনেক ভালো হয়। কিন্তু অতিরিক্ত কথা কার ভালো লাগে? আমার এক ক্লায়েন্ট আছে, তার এই গুনের কারনে তার ৬-৭ টা রিলেটিভ কে চিনি আমি।

৪। মিস্টার ফাইনাল রিভিশনঃ

এই জিনিস আপনার লাইফকে হেল করে দিতে ওস্তাদ। তাদের হাতে কয়েক বস্তা ফাইনাল রিভিশন থাকে এবং প্রত্যেকবার প্রজেক্ট সাবমিট করার পর একটা করে ফাইনাল রিভিশন পাঠিয়ে দিবে। আয়ারলি প্রজেক্ট না হলে ফ্রিল্যান্সারের খবর আছে।

৫। মিস্টার পেট ব্যাথাঃ

এই ক্লায়েন্টগুলিকে ফ্রিল্যান্সার রা ভয় পায়। প্রথমে এরা অনেক ভালো একটা ক্লায়েন্ট হিসেবে হাজির হয়। তার চেয়ে ভালো ক্লায়েন্ট হয় ই না। আপনি কাজ শেষ করে ইনভয়েস পাঠাবেন তাকে, তখন দেখা যাবে তার আসল রুপ। তার প্রচুর সমস্যা, তার ফ্যামিলি ইমারজেন্সি হবে তখন। তার ব্যাঙ্ক একাউন্ট ফ্রিজ হবে, পেট ব্যাথা হবে, ইত্যাদি। সমস্যাগুলি ঠিক হয়ে গেলেই আপনাকে পে করে দিবে সে। আনফরচুনেটলি, তার সমস্যা কখনোই শেষ হয় না।

৬। মিস্টার মাছের বাজারঃ

এই ভাই সাহেব প্রজেক্ট নিয়া আলোচনা করতে আসেন না, ইনি মাছ কিনতে আসেন। ১০০০ ডলারের প্রজেক্ট ইনি অত্যন্ত গর্বের সহিত ২০০ ডলারে অফার করতে পারেন। মজার ব্যাপার হল এরা সহজে পিছু ছাড়ে না, আঠার মতো লেগে থাকে এরা।

৭। মিস্টার নেক্সট প্রজেক্টঃ

এইটা করেন এই দাম দিয়ে, পরের প্রজেক্টে আপনাকে মিলেনিয়ার বানিয়ে দিবো। এরকমই কথার ধরন হয় কিছু ক্লায়েন্টের। কিন্তু আনফরচুনেটলি, নেক্সট প্রজেক্ট বলতে কিছু থাকে না এদের।

তবে একটু সতরকতার সহিত হ্যান্ডেল করলে এই ক্লায়েন্টগুলকেও বাগে আনা যায়। আর এরকম ক্লায়েন্ট দিয়ে যে মার্কেটপ্লেস ভরা তা কিন্তু না। বেশিরভাগ ক্লায়েন্টই ভালো। কিছু কিছু এমন ক্লায়েন্ট এর আবির্ভাব ঘটে মাঝে মাঝে, তাদের কে হ্যান্ডল করতে না পারলে এভয়েড করাই বেটার।

পোস্টের মন্তব্যগুলি

কমেন্ট লোড হচ্ছে...

এই ধরনের আরও পোস্ট

নারীদের ফ্রিল্যান্সিংঃ কেনো নারীদের ফ্রিল্যান্সিং করা উচিৎ

৫ বছর আগে পোস্ট করা হয়েছে

নারীদের ফ্রিল্যান্সিংঃ কেনো নারীদের ফ্রিল্যান্সিং করা উচিৎ

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীদের ফুল টাইম চাকরি করা অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ। বাংলাদেশের বেশীরভাগ স্বামীরা সংসারের কাজ করতে অভ্যস্ত নয়। ফলে, কোন নারী চাকরি করলেও, তাকে সংসারের সকল কাজ করতে হয়। এই কারনেই, বাংলাদেশের নারীরা চাকরি করে না বা তাকে করতে দেয়া হয় না। কিন্তু তারা ইচ্ছে করলেই অনায়াসেই কিছু সময় ফ্রিল্যান্সিং করে ভালো আয় করতে…

ফ্রিল্যান্সিং আর আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য

২ বছর আগে পোস্ট করা হয়েছে

ফ্রিল্যান্সিং আর আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য

ফ্রিল্যান্সিং কে পেশা হিসেবে বলার একটা ট্র্যাডিশন অনলাইন কমিউনিটিতে প্রচার হয়েই আছে, তার মধ্যে কিছু পন্ডিত ভাই-ব্রাদার আবার আদর করে এটাকে আউটসোর্সিং বলেও প্রচার করে থাকে। কিছু টেক জার্নালিস্ট, ইভেন কিছু সরকারের উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তারাও এই সেক্টরটাকে আউটসোর্সিং বলে প্রচার করে। ফ্রিল্যান্সিং ওয়ার্ডটাকে কে মোটামুটি মেনে নেয়া যায়, কিন্তু আউটসোর্সিং শব্দটা যে সম্পুর্ন উল্টো, এটা কেউ…

বিগিনার গাইডঃ ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করবেন? কোথায় কাজ শিখবেন?

৫ বছর আগে পোস্ট করা হয়েছে

বিগিনার গাইডঃ ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করবেন? কোথায় কাজ শিখবেন?

বিগত কয়েক বছরে ফ্রিল্যান্সিং ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি চোখে পরার মতো। বাংলাদেশে এখন অনেক ভালো ভালো ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে বাংলাদেশ এখন জনপ্রিয় একটি নাম। তবে কিছু কিছু নতুন নন স্কিল্ড ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাংলাদেশের কিছুটা দুর্নামও রয়েছে। অনেকে প্রচুর আগ্রহ এবং প্যাসিভ ইঙ্কামের আশায় কাজ না শিখেই মার্কেটপ্লেসগুলিতে একাউন্ট করে বিভিন্ন জবে এপ্লাই করা শুরু করে…

ফ্রিল্যান্সিং এর টুকরো গল্প [১] – প্রথম ধোঁকা

৪ বছর আগে পোস্ট করা হয়েছে

ফ্রিল্যান্সিং এর টুকরো গল্প [১] – প্রথম ধোঁকা

আমার ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ক্লায়েন্ট ছিলো ক্যানাডিয়ান। প্রথম ক্লায়েন্ট, প্রথম কাজ, প্রথম আর্নিং, মনের ভিতর একটা প্রশান্তির হাওয়া বয়ে যাচ্ছিলো। টানা দুই বছরের প্রচেস্টা আজ সফলতার মুখ দেখলো। কিন্তু জানা ছিলো না ক্যারিয়ারের প্রথম ক্লায়েন্টই আমাকে ধোকা দিবে। ওইসময়ে ওডেস্ক প্রোফাইলের কত ঘন্টা কাজ করা হয়েছে সেটার উপর যথেস্ট গুরুত্ত্ব দেয়া হতো, তাই…

ফ্রিল্যান্সিং এর প্রচারণা এবং ছাত্রদের ফ্রিল্যান্সিং

৫ বছর আগে পোস্ট করা হয়েছে

ফ্রিল্যান্সিং এর প্রচারণা এবং ছাত্রদের ফ্রিল্যান্সিং

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং কে নিয়ে ওভার পাবলিসিটি হচ্ছে। এই প্রচারণা কেউ করছে নিজে পাবলিসিটি পাওয়ার জন্য আর কেও করছে নিজে কিছু কামিয়ে নেওয়ার জন্য। আর প্রতিদিনই অসংখ্য ছেলে-মেয়েরা সবকিছু ফেলে এই সেক্টরে ঢুকছে আর অসংখ্য ছেলে-মেয়েরা হতসায় নিমজ্জিত হচ্ছে। এখানে আবেগের বশে এসে কোন লাভ নেই। আর আসলাম, বসলাম, টাকা গুনলাম এই ভ্রান্তিটাও বেশীরভাগ নতুনদেরই রয়েছে।…

দুর্বল ইন্টারনেট কানেকশন

আপনার ইন্টারনেটের ধীরগতির জন্য পেজটি লোড হতে কিছুক্ষণ বেশী সময় লাগছে।